বিবিসি’র নিউজ হওয়া উচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন বিশ্ব রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বুঝতে সাধারণ মানুষ এখনও বিবিসি (BBC) বা সিএনএন-এর মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। কিন্তু এই গণমাধ্যমগুলো কি সবসময় নিরপেক্ষ চিত্র তুলে ধরে? সম্প্রতি বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত একটি খবরের শিরোনাম ছিল, “ইরান কেন বিশ্বের বহু সংঘাতের সাথে জড়িত”। এই প্রতিবেদনটি দেখার পর একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক—সংবাদ মাধ্যমটির আসল শিরোনাম হওয়া উচিত ছিল: “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন অবৈধভাবে বিভিন্ন সার্বভৌম দেশে আক্রমণ করে?” তথাকথিত গণতন্ত্রের আড়ালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন বিগত কয়েক দশকের বিশ্ব ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন বিশ্বের বহু দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আজ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বিশ্বের অসংখ্য সার্বভৌম রাষ্ট্রে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের অজুহাত ছিল ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা’ কিংবা ‘মানবাধিকার রক্ষা’। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের কথা আমরা সবাই জানি। মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে একটি সাজানো যুদ্ধের মাধ্যমে ইরাককে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছিল। আজ যদি আমরা লিবিয়া, সিরিয়া বা আফগানিস্তানের দিকে তাকাই, তবে দেখব সেখানে মার্কিন হস্তক্ষেপ কেবল রক্তপাত এবং দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতাই বয়ে এনেছে। অথচ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো যখন সংঘাত নিয়ে কথা বলে, তখন তারা এই আগ্রাসনগুলোকে খুব সুকৌশলে ‘শান্তি মিশন’ হিসেবে জাহির করে। আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী প্রতিটি রাষ্ট্রই সমান এবং সার্বভৌম। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন বারবার এই আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। যখন কোনো শক্তিশালী দেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তোয়াক্কা না করে অন্য দেশে বোমা হামলা চালায়, তখন তাকে ‘অবৈধ’ বলা ছাড়া উপায় নেই। বিবিসি যখন ইরানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন তারা কি একবারও ভেবে দেখেছে যে মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির মূলে কারা? কেন বছরের পর বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে যুদ্ধের ময়দান বানিয়ে রাখা হয়েছে? গণমাধ্যমের উচিত ছিল এটা ব্যাখ্যা করা যে, কিভাবে পশ্চিমা শক্তির হস্তক্ষেপ একটি অঞ্চলের স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এবং চরমপন্থা সৃষ্টিতে সহায়তা করে। গণমাধ্যমের নৈতিকতা ও দ্বিমুখী নীতি সাংবাদিকতার মূল মন্ত্র হওয়া উচিত ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। কিন্তু বিবিসি-র মতো প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যমগুলো যখন কেবল ইরান বা রাশিয়ার মতো দেশগুলোর কর্মকাণ্ডকে ‘সংঘাত’ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপগুলো এড়িয়ে যায়, তখন তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশ্বের সাধারণ মানুষ আজ বুঝতে পারছে যে, বৈশ্বিক সংঘাতের জন্য কেবল একটি বা দুটি দেশ দায়ী নয়। বরং বড় শক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তারের লড়াই এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন-ই অধিকাংশ সংঘাতের মূল কারণ। বিবিসি-র উচিত ছিল তাদের প্রতিবেদনে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে সাহসের সাথে প্রতিবেদন করা। উপসংহার পরিশেষে বলতে চাই, বিশ্ব শান্তি কেবল আলোচনার টেবিলে আসবে না যদি না প্রভাবশালী দেশগুলো অন্যের সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা করতে শেখে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন এবং এর ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে আরও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। গণমাধ্যম যদি কেবল একপাক্ষিক প্রোপাগান্ডা চালায়, তবে তারা সত্য আড়াল করার অপরাধে অপরাধী হবে। আমাদের দাবি স্পষ্ট—সংবাদ হওয়া উচিত নিরপেক্ষ, যেখানে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করা হবে, সে যত শক্তিশালীই হোক না কেন।

বিবিসি’র নিউজ হওয়া উচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন

বিশ্ব রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বুঝতে সাধারণ মানুষ এখনও বিবিসি (BBC) বা সিএনএন-এর মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। কিন্তু এই গণমাধ্যমগুলো কি সবসময় নিরপেক্ষ চিত্র তুলে ধরে? সম্প্রতি বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত একটি খবরের শিরোনাম ছিল, “ইরান কেন বিশ্বের বহু সংঘাতের সাথে জড়িত”। এই প্রতিবেদনটি দেখার পর একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক—সংবাদ মাধ্যমটির আসল শিরোনাম হওয়া উচিত ছিল: “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন অবৈধভাবে বিভিন্ন সার্বভৌম দেশে আক্রমণ করে?”

তথাকথিত গণতন্ত্রের আড়ালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন

বিগত কয়েক দশকের বিশ্ব ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন বিশ্বের বহু দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আজ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বিশ্বের অসংখ্য সার্বভৌম রাষ্ট্রে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের অজুহাত ছিল ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা’ কিংবা ‘মানবাধিকার রক্ষা’। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের কথা আমরা সবাই জানি। মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে একটি সাজানো যুদ্ধের মাধ্যমে ইরাককে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছিল। আজ যদি আমরা লিবিয়া, সিরিয়া বা আফগানিস্তানের দিকে তাকাই, তবে দেখব সেখানে মার্কিন হস্তক্ষেপ কেবল রক্তপাত এবং দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতাই বয়ে এনেছে। অথচ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো যখন সংঘাত নিয়ে কথা বলে, তখন তারা এই আগ্রাসনগুলোকে খুব সুকৌশলে ‘শান্তি মিশন’ হিসেবে জাহির করে।

আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন

জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী প্রতিটি রাষ্ট্রই সমান এবং সার্বভৌম। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন বারবার এই আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। যখন কোনো শক্তিশালী দেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তোয়াক্কা না করে অন্য দেশে বোমা হামলা চালায়, তখন তাকে ‘অবৈধ’ বলা ছাড়া উপায় নেই।

বিবিসি যখন ইরানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন তারা কি একবারও ভেবে দেখেছে যে মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির মূলে কারা? কেন বছরের পর বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে যুদ্ধের ময়দান বানিয়ে রাখা হয়েছে? গণমাধ্যমের উচিত ছিল এটা ব্যাখ্যা করা যে, কিভাবে পশ্চিমা শক্তির হস্তক্ষেপ একটি অঞ্চলের স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এবং চরমপন্থা সৃষ্টিতে সহায়তা করে।

গণমাধ্যমের নৈতিকতা ও দ্বিমুখী নীতি

সাংবাদিকতার মূল মন্ত্র হওয়া উচিত ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। কিন্তু বিবিসি-র মতো প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যমগুলো যখন কেবল ইরান বা রাশিয়ার মতো দেশগুলোর কর্মকাণ্ডকে ‘সংঘাত’ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপগুলো এড়িয়ে যায়, তখন তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

বিশ্বের সাধারণ মানুষ আজ বুঝতে পারছে যে, বৈশ্বিক সংঘাতের জন্য কেবল একটি বা দুটি দেশ দায়ী নয়। বরং বড় শক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তারের লড়াই এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন-ই অধিকাংশ সংঘাতের মূল কারণ। বিবিসি-র উচিত ছিল তাদের প্রতিবেদনে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে সাহসের সাথে প্রতিবেদন করা।

উপসংহার

পরিশেষে বলতে চাই, বিশ্ব শান্তি কেবল আলোচনার টেবিলে আসবে না যদি না প্রভাবশালী দেশগুলো অন্যের সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা করতে শেখে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন এবং এর ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে আরও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। গণমাধ্যম যদি কেবল একপাক্ষিক প্রোপাগান্ডা চালায়, তবে তারা সত্য আড়াল করার অপরাধে অপরাধী হবে। আমাদের দাবি স্পষ্ট—সংবাদ হওয়া উচিত নিরপেক্ষ, যেখানে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করা হবে, সে যত শক্তিশালীই হোক না কেন।

নিউজ লিংক:  https://www.youtube.com/watch?v=AEph-vwQo6c

Facebook
Twitter
LinkedIn